Wednesday, 8 November 2017

মেয়েদের প্রদর (Leucorrhoea) বা শ্বেতপ্রদরের কারণ, লক্ষণ ও কার্যকর চিকিৎসা

Posted By: Tips Zone - November 08, 2017

মেয়েদের জরায়ু হতে সাদা, হলদে বা দুধের মত এক প্রকার তরলস্রাব নির্গত হয় যাকে প্রদর বা Leucorrhoea বলা হয়। সাধারণত স্রাব শ্বেত বর্ণের হয়ে থাকে বলে ইহাকে শ্বেতপ্রদর বলা হয়ে থাকে । গন্ডমালা ধাতুগ্রস্থ অল্প বয়স্ক বালিকাদের অনেক সময় এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়
প্রদরস্রাবের (leucorrhoea) কারণ :- বিভিন্ন কারণে এই রোগটি হতে পারে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব, উপযুক্ত ভালো পরিবেশের অভাব এই রোগের প্রধান কারণ। জনন যন্ত্রে জীবানু দূষণ থেকেও হতে পারে। এই জাতীয় রোগ সাধারণত মনিয়াল বা ট্রিপানোস নামক জীবানু দ্বারা সংঘটিত হয়। গনোরিয়া, সিফিলিস থেকেও ইহা হতে পারে। যোনি ও জরায়ুর প্রাচীর প্রদাহ থেকে হতে পারে। বার বার গর্ভপাত ও ইহার একটি প্রধান কারণ হৃত্পিণ্ড বা ফুসফুসের কোন পীড়ায় যথারীতি রক্ত সঞ্চালন ক্রিয়ার বাধাগ্রস্থ হওয়া, পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য, অত্যধিক রতিক্রিয়া, হস্তমৈথুন, স্বাস্থের অবনতি, দুর্বলতা, রক্তহীনতা, জরায়ুর স্থানচ্যুতি, অনিয়মিত ঋতু, ক্লোরসিস, স্ক্রুফুলা, টিউবার কিউলেসিস প্রভৃতি রোগ হতে প্রদর (leucorrhoea) বা শ্বেতপ্রদর সৃষ্টি হতে পারে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃমির জন্য অনেক সময় ছোট ছোট বালিকাদের কখনো কখনো শ্বেতপ্রদরের মত স্রাব হয়। 

প্রদরস্রাবের (leucorrhoea) লক্ষণ:- জরায়ু গ্রীবার অভ্যন্তর ও যোনিপথে যে আবরক ঝিল্লি আছে তা হতে সুস্থাবস্থায় অতি অল্প পরিমানে লালার মত একপ্রকার শ্লেষ্মা নির্গত হয়। জরায়ু গ্রীবা ও যোনিপথের অস্বাভাবিক শুস্কতা নিবারণ করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। কিশোরী বালিকাদের যৌবন আগমনের কালে অথবা যে কোনো রমনীর অন্তসত্বা অবস্থায় এবং নারীদের প্রত্যেক ঋতুর ঠিক পূর্বে এই শ্লেষ্মার পরিমান কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে কিন্তু সে অবস্থায় ইহাকে প্রদর বলে না। যদি কোনো কারণ বশত এই শ্লেষ্মার পরিমান কিছুটা বৃদ্ধি পায় তবেই তা প্রদরের লক্ষণ প্রকাশ করে। 

এই রোগের প্রথম অবস্থায়ই হোমিও ট্রিটমেন্ট নেয়া উচিত। আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ঢাকাতে অর্থাৎ আমাদের চিকিৎসাধীনে প্রথম পর্যায়ে আসা প্রত্যেক রোগিনীই খুব দ্রুত সুস্থ হয়েছেন। তাই অবহেলা না করে অভিজ্ঞ কোনো হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। তা না হলে ক্রমে জরায়ু হতে অধিক পরিমানে পুঁজের মত স্রাব নিঃসৃত হতে থাকে এবং এইজন্য যোনির অভ্যন্তরে ও যোনি মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাধরা, পেট ফাঁপা, পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ এবং মুখমন্ডলে রক্তহীনতার ভাব দেখা দেয়। জরায়ু থেকে অনিয়মিত ভাবে সাদাস্রাব বের হতে থাকে। কখনো বা ঋতু বন্ধ হবার পর সাদাস্রাব শুরু হয় এবং ক্রমাগত চলতে থাকে। মাঝে মাঝে তার সঙ্গে লালচে স্রাব দু'চার ফোটা বের হতে পারে। যদি ঘা সৃষ্টি হয় তবে যোনি চুলকাতে থাকে। এই সমস্যার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ট্রিটমেন্ট রয়েছে একমাত্র হোমিওপ্যাথিতে যা সমস্যাটিকে তার মূল থেকে নির্মূল করে দেয় এবং রোগিনী পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেন। 

আধুনিক হোমিওপ্যাথিতে ট্রিটমেন্ট নিতে আসা অধিকাংশ রোগিনিদের বেলায় আমরা দেখেছি এই জাতীয় রোগে আক্রান্ত রোগীর পেতে গোলমাল এবং এসিডিটি থাকে । এছাড়া মাথা ধরা, মাথায় যন্ত্রনা, মাথা বেদনা ইত্যাদি লক্ষণও প্রকাশ পায়। অনেকের ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি উদরাময় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য পর্যায়ক্রমে দেখা দেয়। অনেকের শরীর খুব রোগা হয়ে যায়। তবে অনেক সময় রোগিনী আবার মোটাও হতে পারে। পীড়া আরম্ভো হবার পূর্বে রোগিনীর কোমরে এবং কুচকির স্থানে টেনে ধরার মত বেদনা অনুভূত হয়। তলপেট ভারী, প্রস্রাব অল্প পরিমানে হয়, তলপেটে চাপ দিলে বেদনা বোধ হয়, সামান্য জ্বর জ্বর ভাব থাকে। এই অবস্থা প্রকাশিত হবার ৩/৪ দিন পরেই জরায়ু থেকে যোনিদ্বার দিয়ে এক প্রকার স্রাব নিঃসরণ হতে থাকে। স্রাব প্রথমে তরল, স্বচ্ছ ও আঠার মত চটচটে থাকে। কাপড়ে সাদা সাদা দাগ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ঘন পুঁজের মত হয়।

এই রোগ ক্রমশ বৃদ্ধি লাভ করে পুরাতন রূপ ধারণ করে। ইহাতে রোগিনী দীর্ঘদিন পর্যন্ত কস্টভোগ করে। সাথে নানা প্রকার জটিল উপসর্গ প্রকাশ পায়। স্রাব অনেক সময় সবুজ, রক্ত মিশ্রিত, হলদে সবুজ মিশ্রিত, পনিরের মত, দুধের মত এবং কখনো তরল বা কখন ঘন প্রকৃতির হয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্রাবে যোনিদ্বার হেজে যায়, ঘা হয়, জ্বালা পোড়া করে। ইহা মেয়েদের একপ্রকার বিশ্রী প্রকৃতির রোগ বিশেষ। তাই প্রাথমিক অবস্থাতেই অভিজ্ঞ কোনো হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে যথাযথ ট্রিটমেন্ট নেয়া উচিত।

About Tips Zone

Organic Theme is officially developed by Templatezy Team. We published High quality Blogger Templates with Awesome Design for blogspot lovers.The very first Blogger Templates Company where you will find Responsive Design Templates.

0 comments:

Post a Comment

Copyright © 2015 Health Tips

Designed by Templatezy & Copy Blogger Themes