আপনি শুনলে হয়ত অবাকই হবেন - বছরের পর বছর ধরে যে অপচিকিৎসায় দেশের বৃহত্তর তরুণ সমাজ যৌন সংক্রান্ত ব্যাপারে নিজেদের ভয়ানক ক্ষতি ডেকে আনছে তার শতকরা ৭০-৮০ ভাগ তরুণ-পুরুষের কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা নেই বললেই চলে আর থাকলেও তা খুব সহজেই নিরাময়যোগ্য। অথচ বিভিন্নভাবে রাস্তা ঘাটের আশেপাশে বেঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা হারবাল-আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও নানা কবিরাজি চিকিৎসায় তরুণদের যে শুধু বিভ্রান্ত করা হচ্ছে তাই নয়, বহু এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারও তরুণদের যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে অজ্ঞতা ও দুর্বলতার সুযোগে রোগী বানিয়ে দিচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করতে বাধ্য করছে।
একটা কথা মনে রাখতে হবে তরুণ-যুবক বয়সে পুরুষদের যৌন সমস্যার শতকরা ৮০ ভাগই মানসিক। মোটেও চিকিৎসার দরকার নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত শারিরীক সমস্যা থাকলেও উপযুক্ত চিকিৎসায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়। তাই তরুণদের প্রতি আমাদের উপদেশ রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া নিজের নির্বাচনে বা সখ করে অযথা হারবাল-আয়ুর্বেদ, ভেষজ, কবিরাজি এবং উত্তেজক এ্যালোপ্যাথিক ঔষধ সেবন করে আপনার যৌন জীবন বিপর্যস্ত করে তুলবেন না। আপনি যত কঠিন যৌন রোগীই নিজেকে মনে করুন না কেন হোমিওপ্যাথি আপনাকে অল্প কিছু দিনেই স্বাভাবিক এবং সুস্থ জীবন দান করবে ইনশা-আল্লাহ। কারণ হোমিওপ্যাথিই একমাত্র চিকিত্সা বিজ্ঞান যেটি কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই নারী পুরুষের যাবতীয় যৌন সমস্যাবলী মূল থেকে নির্মূল করে রোগীকে চিরতরে আরোগ্য করতে সর্বাধিক সাফল্য দেখিয়েছে। তাছাড়া হোমিওতে এমন কিছু রেমেডি রয়েছে, কেউ যদি মানসিক কারণে যৌন দুর্বলতায় ভোগে তার মানসিক অবস্থাটাও পরিবর্তন করে পুরু সমস্যাটা দূর করে দেয় যা অন্য কোন চিকিত্সা পদ্ধতিতে নেই। আর সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো হারবাল-আয়ুর্বেদ, ভেষজ, কবিরাজি এবং উত্তেজক এ্যালোপ্যাথিক ঔষধের মত হোমিও ঔষধ সব সময় খেয়ে যেতে হয় না। কিছু দিন কন্টিনিউ করলেই রোগটি পুরোপুরি রুট লেভেল থেকে নির্মূল হয়ে আবার শরীরে পূর্বের স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থাটা চলে আসে, আর তখন কোন ঔষধই খাওয়ার দরকার পড়ে না। অর্থাৎ আপনি আবার সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে উঠবেন।
জেনে রাখা ভালো (হস্তমৈথুন প্রসঙ্গে) :-
অনেকেই শীতপ্রধান দেশের বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ ফলাফল আমাদের উপমহাদেশের অর্থাৎ গ্রীষ্মপ্রধান দেশের বেলায় চালাতে চান। এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের বাস্তবতা উপলগ্ধি করতে হবে। আমাদের দেশের ছেলেদের ১০-১২ বছরের মধ্যেই যৌন পরিপক্কতা চলে আসার কারণে তারা অনেকে তখন থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে এবং বিয়ের সময় অর্থাৎ বয়স ২০-৩০ বছর হওয়ার পর দেখা যায় তারা নানা প্রকার যৌন সমস্যা সৃষ্টি করে ফেলেছেন। দেখা গেছে যে ৯/১০ বছর বয়স থেকেই ভারত বাংলাদেশের ছেলেরা হস্তমৈথুন করা শুরু করে অথচ এটা তাদের বাড়ন্ত বয়স। আর তখন থেকে দীর্ঘ দিন বছরের পর বছর যাবৎ অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করার কারণে পেনিসের গ্রোথ কিছুটা বাধাগ্রস্থ হাওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর বাস্তবতা হলো অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটেও থাকে। যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে শুধুমাত্র ঐ ক্ষেত্রে পেনিসের আকার কিছুটা বাড়ানো যায়।
এবার আসুন শীতপ্রধান দেশগুলির ছেলেদের বিষয়ে আসি। তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। ঐসব দেশে ছেলেদের যৌন পরিপক্কতা আসে অনেক দেরিতে, অনেকের ১৬-১৮ বছর হয়ে যায়। তাছাড়া তারা যে কারো সাথে মেলামেশার সুযোগ পেয়ে থাকার কারণে হস্তমৈথুন ততটা করে না। তাই তারা এর জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হয় না বললেই চলে। তাই আপনাদের অবশ্যই এ বিষয়টা বুঝতে হবে এবং তাদের ক্ষেত্রে যে থিওরি তাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকেন তা আমাদের দেশের ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ তারা যদি আমাদের দেশের ছেলেদের মত হস্তমৈথুনে আসক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এটা করতে থাকত তাহলে তারাও এর কুফল গুলির সম্মুখীন হত। তাই আমাদের দেশের তথাকথিত গুগল সার্চ করা আর কপি পেস্ট করা বিশেষজ্ঞদের প্রতি অনুরোধ - বিষয়টা ভালো ভাবে না জেনে, না বুঝে এবং বাস্তব ধারণা না নিয়ে "হস্তমৈথুন করাকে শরীরের জন্য উপকারী" এ কথা বলে তরুনদের বিভ্রান্ত করবেন না। আমরা দেখেছি একমাত্র নানা প্রকার ভুয়া যৌন সামগ্রী বিক্রেতারাই কোমলমতি তরুনদের হস্তমৈথুন করার প্রতি উত্সাহিত করে থাকে। কারণ তরুণরা যতই সমস্যার স্বীকার হবে ততই তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটবে। সবাই ভালো ভাবে জেনে রাখুন - আপনি যদি বছরের পর বছর ধরে হস্তমৈথুন করতে থাকেন তাহলে এক সময় মারাত্মক কিছু সমস্যার সমুখীন হবেন যা আপনার যৌন জীবনকে বিপর্যস্থ করে তুলবে। এটা আমরা উপমহাদেশের (বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তান) হাজার হাজার তরুনদের ট্রিটমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ করেছি। তারা সবাই বিনা বাক্য ব্যয়ে আমাদের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন যে - ছোট কাল থেকেই তারা হস্তমৈথুনে অভ্যস্থ ছিলেন।
সতর্ক হোন (বিবাহিত পুরুষদের যৌন দুর্বলতার ক্ষেত্রে) :-
বিবাহিত জীবনে স্বাভাবিক অবস্থায় যৌন দুর্বলতায় কোনো প্রকার ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন নাই। অর্থাৎ লিঙ্গ উত্থান জনিত কোনো শারীরিক সমস্যা অথবা অন্য কোনো যৌন রোগের কারণে যদি আপনার যৌন দুর্বলতার সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে সেই রোগের চিকিত্সা করাতে হবে। তারপর যৌন সমস্যার বিষয়টি দেখতে হবে। মূল কথা হলো বিবাহিত পুরুষদের যৌন দুর্বলতায় কোনো ঔষধের প্রয়োজন নাই। আপনারা হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে যৌন দুর্বলতার সৃষ্টি হলে এটা সারবে কিভাবে ? একটা বিষয় চিন্তা করুন পুরুষের যৌন ক্ষমতাটা তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে না। এটা সরাসরি নির্ভর করে তার শারীরিক সক্ষমতার উপর। তাই আপনাকে চিন্তা করতে হবে কি করলে আপনি সবসময় শারীরিক ভাবে ফিট থাকবেন। কারণ যৌনতাও আপনার শরীরেরই একটা অংশ। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে আপনি যৌনতায় ফিট থাকতে পারেন। তার জন্য ক্ষতিকর ও উত্তেজক হার্বাল, কবিরাজি, ভেষজ ও অ্যালোপ্যাথি ঔষধ খেয়ে যাওয়ার কোন প্রয়োজনই নেই। কারণ পুরুষের যৌন শক্তি সঞ্চিত হয় দৈনন্দিন খাবার দাবার থেকে।
আপনি যদি সখের বসে নিয়মিত এইসব ক্ষতিকর এবং উত্তেজক হার্বাল, কবিরাজি, ভেষজ ও অ্যালোপ্যাথি ঔষধ খেতে থাকেন তা হলে একসময় দেখবেন আপনি এতে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছেন আর এমনটিই হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং প্রতিবার ঐসব ঔষধ খাওয়া ব্যতীত আপনি আর সহবাস করতে পারছেন না। শুধু তাই নয় দীর্ঘদিন এইগুলি ব্যবহার করতে থাকলে আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহও নানা প্রকার জটিল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে থাকবে। আর সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আমরা দেখে আসছি সেটা হলো এক সময় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে ঐ অবস্থায় আর কোনো যৌন শক্তির ঔষধই কাজ করে না। এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কি ঐসব ক্ষতিকর ঔষধ খেয়ে খেয়ে আপনার যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলবেন নাকি নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনের মাধ্যমে আনন্দময় সুখী যৌন জীবন উপভোগ করবেন। তবে ক্ষেত্র বিশেষে হয়ত চিকিত্সকরা ঐ সংক্রান্ত ঔষধ কিছু দিনের জন্য প্রেস্ক্রাইব করতে পারেন। সেটা ভিন্ন কথা। কারণ যে কোনো ঔষধই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া বিপদজনক। এবার আসুন বিবাহিত পুরুষদের যৌন দুর্বলতায় কি কি করা প্রয়োজন সে দিকে যাই।
আবারও বলছি, বিবাহিত জীবনে পুরুষদের যৌন দুর্বলতা একেবারেই একটা সাধারণ ব্যাপার । তাই যৌন সামগ্রী ব্যবসায়ীদের বিজ্ঞাপনের ছটায় বিভ্রান্ত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আপনি আপনার মন-মানসিকতাকে দুর্বল করে তুলবেন না। আপনি যদি এবিষয়ে একটু সচেতন থাকেন তাহলে এ সংক্রান্ত কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা নয়। নিয়মিত ব্যায়াম করুন, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন, দুধ (ছাগলের দুধ অধিক উপকারী), ডিম এবং মধু খাবার মেনুতে রাখুন দেখবেন আপনার যৌন দুর্বলতা আসার কোনো সুযোগই থাকবে না। তবে কোনো প্রকার এক্সিডেন্ট বা রোগ-ব্যাধির কারণে যৌন দুর্বলতা বা যৌন সংক্রান্ত কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে ভূল করবেন না।
নবযৌবনে পদার্পণ করেছেন যারা (লিঙ্গ দিযে সাদা আঠালো পানি আসা) :-
মেয়েদের সাথে কথা বলার সময়, অধিকক্ষণ যৌন চিন্তার ফলে, পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত অবস্থায় কিছুক্ষণ থাকলে লিঙ্গ দিযে সাদা আঠালো পানি (যাকে কমরস ও বলা হয়ে থাকে) আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং ইহা পুরুষদের একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার, তাই বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনারা সবাই এটা জানেন যে, পুরুষদের প্রস্রাবের পথ আর প্রজননতন্ত্র একই। প্রস্রাব অম্লীয় প্রকৃতির। যার কারণে বীর্য বের হওয়ার সময় যাতে অম্লীয় পরিবেশের কারণে শুক্রানু নষ্ট হতে যেতে না পারে তার জন্য এই পদার্থটি আল্লাহ পাক বের হওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যাতে অম্লীয় ভাবটা দূর হয়ে যায়। তবে যদি এটি বেশি বেশি হতে থাকে তখন হয়ত কিছুটা সমস্যা থাকতে পারে (স্পারম্যাটোরিয়ার ফলে হতে পারে কিন্তু এর জন্য দুশ্চিন্তার কোন কারণই নেই, এটি কিছু দিনের যথাযথ হোমিও চিকিত্সায় ঠিক হয়ে যায় )।


0 comments:
Post a Comment