Wednesday, 8 November 2017

হরমোনজনিত সমস্যার কারণে কি সন্তান হচ্ছে না ?

Posted By: Tips Zone - November 08, 2017

সন্তান লাভের চেষ্টা করছেন কিন্তু সে চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। দাম্পত্য জীবনে এমন দুঃখজনক সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এ সমস্য অনেক কারণেই দেখা দিতে পারে। দেখা দিতে পারে হরমোনজনিত সমস্যার কারণে। চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১০ শতাংশ দম্পতির সন্তান লাভের জন্য চিকিৎসার সহায়তা নিতে হয়। সন্তান নিতে চাচ্ছেন কিন্তু সন্তান পাচ্ছেন না হ্যা এমনটি ঘটতে পারে দম্পতির উভয়ের কোনো একজনের সংকটের কারণে।

অথবা দম্পতির কোনো একজন অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রীর সমস্যার কারণেও এ হতে পারে। তবে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই সন্তান না হলে তার দায়িত্ব এককভাবে স্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার একটি প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরণের প্রবণতা মোটেও বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত নয়। বরং এ ধরণের প্রবণতা বিজ্ঞান বিরোধী। অশিক্ষা এবং কুসংস্কার হতে এ ধরণের প্রবণতার সৃষ্টি হয়।

কোনো দম্পতি সস্তান নিতে যাচ্ছে কিন্তু তাদের যে ইচ্ছা সফল হচ্ছে না। এ জন্য দুটো সমস্যা থাকতে পারে। যিনি পিতা হতে চাচ্ছেন তার শুক্রকীটের সমস্যা থাকতে পারে। অন্য দিকে যিনি মা হতে চাচ্ছেন তার ডিম্বাণু সংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে। এ ধরণের দম্পতিকে সাব ফার্টাইল বা ইন ফার্টাইল বলে অভিহিত করা হয়। আর ধরণের সমস্যা হরমোনজনিত কারণে হতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা করার পরও যে সব দম্পতি সন্তান লাভ করতে পারছেন না। তাদের উচিত প্রথমেই হরমোন বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করা। হরমোন বিশেষজ্ঞ সমস্যা সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য যা করবেন তা হলো স্বামী এবং স্ত্রীকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করবেন। অর্থাৎ সমস্যার শেকড় কোথায় তা নির্ণয় করবেন।

হরমোন বিশেষজ্ঞ যা করবেন তা হলো প্রথমেই স্বামীর শুক্রকীটের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা বের করবেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক পুরুষের শুক্রকীট আদৌ উৎপন্ন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা দ্বারা এর কোনো সুরাহা করা যায় না। এ ধরণের দুর্ভাগ্যজনক অবস্থা কোনো দম্পতির হোক তা কেউই কামনা করবেন না। কিন্তু তারপরও এ ধরণের ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে এ দম্পতিকে চিকিৎসক ব্যাপারটি বুঝিয়ে দিবেন এবং তাদেরকে এ অবস্থা মেনে নিতে হবে সে উপদেশও দিবেন। তবে এটি একটি চরম পরিস্থিতি। এবং তা ঘটেও কম।

সাধারণভাবে শুককীটের সংখ্যা কম থাকলে বা শুককীট দুর্বল হলে তা হরমোনের কারণে ঘটে। এ সাথে কখনো কখনো সংক্রমণের কারণে এ ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে আশার কথা হলো এ সব সমস্যা হরমোন চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব।

অন্যদিকে মা হওয়ার ক্ষেত্রে মহিলার সংকট নির্ধারণের জন্য প্রথমেই দেখতে হবে তার মাসিক নিয়মিত হচ্ছে কিনা। মাসিক নিয়মিত হলে ডিম্বাণু সঠিক ভাবে ফুটছে তা ধরে নেয়া যেতে পারে। তবে মাসিক নিয়মিত হলেও অনেক সময় ডিম্বাণু সঠিক ভাবে ফুটে না। এ ছাড়া মাসিক যদি নিয়মিত না হয় তা হলে ধরে বুঝতে হবে হবে ডিম্বাণু আদৌ ফুটছে না । বা সময় মতো ফুটে না। ডিম্বাণু সঠিকভাবে না ফোটার পেছনে যে সব কারণ রয়েছে তা বের করে চিকিৎসা করা গেলে সংকট দূর হবে। এবং সে দম্পতির সন্তান নিতে সুবিধা হবে।

তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু দৈহিক কারণও মা হওয়ার পথে সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। এরকম একটি হলো, ডিম্বাণু শুক্রের সাথে যে মিলিত হওয়ার জন্য দুইটি টিউব বা নালী আছে। দৈহিক যে কোনো কারণে এই দুই টিউবের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাতে ডিম্বাণু সঠিক ভাবে উৎপন্ন হওয়া সত্বেও মা হওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে হরমোন বিশেষজ্ঞ নয় বরং গাইনি বিশেষজ্ঞের চিকিৎসার দরকার পড়বে। কারণ তিনি অস্ত্রোপচার করে এ সংকট দূর করবেন। কিংবা ভিন্ন আরেকটি চিকিৎসাও এ ক্ষেত্রে হতে পারে। আর সে জন্য হরমোন বিশেষজ্ঞ, গাইনি বিশেষজ্ঞ এবং ভ্রুণ বিশেষজ্ঞের সম্মিলিত প্রয়াসের দরকার পড়বে। এই পদ্ধতিতে স্ত্রীর ডিম্বাণু ও স্বামীর শুককীট বাইরে এনে তাদেরকে নিষিক্ত করে তারপর জরায়ুতে স্থাপন করতে হবে। এ ভাবে ভ্রুণ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের ভূমিকার বিষয়টি দেখবেন হরমোন বিশেষজ্ঞ। তিনি একই সাথে এ ধরণের চিকিৎসার প্রাথমিক বিষয়গুলোও দেখবেন। হোমিও ট্রিটমেন্টও এক্ষেত্রে কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে।

রোগের চিকিৎসার সাথে খরচের কথাও এসে যায়। থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতির কারণে যদি কোনো মহিলার ডিম্বাণু সৃষ্টি না হয় তবে সে ঘাটতি পূরণের চিকিৎসা মোটেও ব্যয় বহুল নয়। অন্যদিকে ভিন্ন ভিন্ন কিছু হরমোনের ঘাটতির কারণে যদি ডিম্বাণু সৃষ্টি না হয় তবে তার চিকিৎসা তুলনামূলক ভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। এর কারণ হলো এ সব হরমোন সংশ্লিষ্ট মহিলাকে নিয়মিত কিনে দিতে হবে। দেহে সে হরমোনের মাত্রা কি পরিমাণ আছে তাও নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দেখতে হবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে খরচের বেশ ধকলে পড়তে পারে। অর্থাৎ এ ধরণের চিকিৎসা ব্যয় বহুল হওয়া না হওয়ার পুরো ব্যাপারটি নির্ভর করে চিকিৎসার ধরণের উপর। তবে এখানে আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন আর তা হলো, স্বামী বা স্ত্রী কারোই দৈহিক কোনো সমস্যা নেই তারপরও তাদের সন্তান নাও হতে পারে। কিংবা দৈহিক সমস্যা দূর করার পরও সন্তান নাও হতে পারে। অর্থাৎ সংকট দূর করলেই দম্পতি সন্তান লাভ করবেন তা বোধ হয় কোনো চিকিৎসকের পক্ষেই জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে পুরুষের শুত্রুকীটের পরিমাণ হওয়া উচিত ২০ থেকে ২০০ মিলিয়ন এমএলএ। এর থেকে কম হলে অর্থাৎ ২০ এর স্থানে যদি ১০টি বা একটি শুককীট থাকে তবে তার সন্তান হবে না বলা যাবে না। তবে এ ধরণের পুরুষের শুক্রকীটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া সম্ভব আর সেটি করা যেতে পারে হরমোনের মাধ্যমে। এ ছাড়া আইভিএফ বা চলতি কথায় যাকে টেস্ট টিউব বেবি বলে সে প্রযু্ক্তিও দম্পতির সন্তান ধারণের পথে সহায়তা করতে পারে। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, কখনোই কোনো দম্পতিকে কোনো চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান লাভের শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়া যাবে না। এ ছাড়া প্রতিটি দম্পতিকে সন্তান হওয়ার বিষয়টি ভালো ভাবে অবহিত হতে হবে। তা হলে তারা সন্তান লাভের জন্য তারা সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

অনেক সময়ই দেখা যায় স্বামী বা স্ত্রী কারো না কারো কোনো সমস্যা থাকে তখন দরকারী কিছু মেডিকেল টেস্ট করে শুধু মাত্র হোমিও ঔষধের মাধ্যমেই অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারগণ এর সফল চিকিত্সা দিতে সক্ষম হন ।

About Tips Zone

Organic Theme is officially developed by Templatezy Team. We published High quality Blogger Templates with Awesome Design for blogspot lovers.The very first Blogger Templates Company where you will find Responsive Design Templates.

0 comments:

Post a Comment

Copyright © 2015 Health Tips

Designed by Templatezy & Copy Blogger Themes